ঢাকায় বাসা ভাড়া দিয়েছেন অথচ থানা থেকে ভাড়াটিয়ার তথ্য চাওয়া হয়নি — এমন বাড়িওয়ালা এখন খুব কমই পাওয়া যায়। নিরাপত্তা ও অপরাধ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বাড়িওয়ালাদের মাধ্যমে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করে থাকে, যা সাধারণত ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম নামে পরিচিত। দেশের অন্যান্য মহানগর ও জেলায়ও স্থানীয় পুলিশ একই ধরনের তথ্য চাইতে পারে। এই গাইডে ফরমটি কীভাবে পূরণ ও জমা দেবেন, তা ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হলো।

ফরমটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

  • কোনো এলাকায় কারা বসবাস করছেন তার একটি হালনাগাদ তথ্যভান্ডার পুলিশের কাছে থাকে।
  • অপরাধী বা পলাতক ব্যক্তিরা ভুয়া পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে লুকিয়ে থাকার সুযোগ কম পান।
  • কোনো দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে পরিবারের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা যায়।
  • বাড়িওয়ালা হিসেবে আপনি প্রমাণ রাখতে পারেন যে ভাড়াটিয়ার তথ্য যথাযথভাবে জানানো হয়েছে।

ফরমে সাধারণত যেসব তথ্য থাকে

অংশযে তথ্য দিতে হয়
বাসার তথ্যবাড়ির ঠিকানা, ফ্ল্যাট/তলা, থানা ও এলাকা
ভাড়াটিয়ার পরিচয়নাম, পিতার নাম, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ধর্ম, বৈবাহিক অবস্থা, ছবি
যোগাযোগমোবাইল নম্বর, ইমেইল (যদি থাকে)
ঠিকানাস্থায়ী ঠিকানা ও আগের বাসার ঠিকানা
পেশাপেশা, প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলের ঠিকানা
পরিবার ও অন্যান্যসঙ্গে থাকা সদস্য, গৃহকর্মী ও গাড়িচালকের তথ্য
রেফারেন্সআগের বাড়িওয়ালার নাম ও ফোন, জরুরি যোগাযোগের ব্যক্তি

ফরমের নির্দিষ্ট ঘর ও বিন্যাস সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, তাই সর্বশেষ ফরমটি সংশ্লিষ্ট থানা বা পুলিশের অফিসিয়াল উৎস থেকে সংগ্রহ করুন।

পূরণ ও জমা দেওয়ার ধাপ

  1. ফরম সংগ্রহ: এলাকার থানা, বিট পুলিশিং কর্মকর্তা বা পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ ফরম সংগ্রহ করুন। কোনো কোনো এলাকায় অনলাইনে তথ্য জমার ব্যবস্থাও চালু আছে।
  2. ভাড়াটিয়াকে দিয়ে পূরণ: ভাড়াটিয়ার তথ্য তাঁকে দিয়েই পূরণ ও স্বাক্ষর করিয়ে নিন, যাতে তথ্যের দায়িত্ব স্পষ্ট থাকে।
  3. মিলিয়ে দেখুন: ফরমের নাম, NID নম্বর ও জন্মতারিখ মূল জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
  4. সংযুক্তি: ভাড়াটিয়ার ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সংযুক্ত করুন।
  5. জমা দিন: সংশ্লিষ্ট থানায় বা নির্ধারিত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে জমা দিন।
  6. কপি রাখুন: পূরণকৃত ফরমের একটি কপি নিজের কাছে রাখুন।

বাড়িওয়ালার জন্য সতর্কতা

  • ভাড়াটিয়া ওঠার সময়ই ফরম পূরণ করান; পরে করতে গেলে প্রায়ই তা আর হয় না।
  • ভাড়াটিয়া বাসা ছেড়ে গেলে বা নতুন সদস্য যুক্ত হলে তথ্য হালনাগাদ করার বিষয়ে থানায় জেনে নিন।
  • ফরমের কপি ও NID-এর ছবি নিরাপদে রাখুন; ভাড়াটিয়ার ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
  • পুলিশ পরিচয়ে কেউ তথ্য চাইলে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হয়ে নিন।

শেষ কথা

ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম পূরণ করা কয়েক মিনিটের কাজ, কিন্তু এটি আপনার বাড়ি ও এলাকার নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখে। ফরম জমার তারিখ ও ভাড়াটিয়ার পরিচয়পত্রের তথ্য বাড়িওয়ালা ERP-এ ভাড়াটিয়ার প্রোফাইলে সংরক্ষণ করে রাখলে পরে পুলিশ বা অন্য কোনো প্রয়োজনে দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়।

দ্রষ্টব্য: এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য, এটি আইনি পরামর্শ নয়। ফরমের বিন্যাস, জমার পদ্ধতি ও সময়সীমা এলাকা ও সময়ভেদে ভিন্ন হতে পারে। সর্বশেষ নিয়ম জানতে আপনার স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করুন।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম কোথায় পাওয়া যায়?

এলাকার থানা, বিট পুলিশিং কর্মকর্তা বা পুলিশের অফিসিয়াল উৎস থেকে সর্বশেষ ফরম সংগ্রহ করা যায়। কিছু এলাকায় অনলাইনে তথ্য জমার ব্যবস্থাও আছে।

ফরম কে পূরণ করবেন, বাড়িওয়ালা না ভাড়াটিয়া?

ভাড়াটিয়ার নিজের তথ্য তাঁকে দিয়েই পূরণ ও স্বাক্ষর করানো ভালো। বাড়িওয়ালা তথ্য যাচাই করে থানায় জমা দেন এবং একটি কপি রাখেন।

ফরমে গৃহকর্মী বা গাড়িচালকের তথ্য দিতে হয় কি?

সাধারণত ফরমে বাসায় থাকা সদস্যদের পাশাপাশি গৃহকর্মী ও গাড়িচালকের তথ্যও চাওয়া হয়। সর্বশেষ ফরমে যে ঘরগুলো আছে সেগুলো পূরণ করুন।

ভাড়াটিয়া বাসা ছেড়ে দিলে কী করতে হবে?

তথ্য হালনাগাদ বা বাসা ছাড়ার বিষয়ে জানানোর নিয়ম এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে। স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করে জেনে নিন এবং নতুন ভাড়াটিয়ার জন্য নতুন ফরম জমা দিন।