ফ্ল্যাট খালি পড়ে থাকলে প্রতিটি দিনই আয়ের ক্ষতি, তাই অনেক বাড়িওয়ালা প্রথম যিনি আসেন তাঁকেই ভাড়া দিয়ে দেন। কিন্তু প্রস্তুতি ছাড়া ভাড়া দিলে পরে ছোটখাটো মেরামত, বিল নিয়ে তর্ক বা অস্পষ্ট শর্তের কারণে অনেক বেশি সময় ও টাকা খরচ হয়। নিচের চেকলিস্টটি চারটি পর্যায়ে ভাগ করা — প্রস্তুতি, বিজ্ঞাপন, ভাড়াটিয়া নির্বাচন এবং হস্তান্তর। প্রতিটি পর্যায় শেষ করে পরেরটিতে যান।
পর্যায় ১: ফ্ল্যাট প্রস্তুত করা
- পানির কল, ফ্লাশ, পাইপলাইনে লিকেজ আছে কি না পরীক্ষা করুন।
- সব সুইচ, সকেট, ফ্যান ও বাতি কাজ করছে কি না দেখুন; ঢিলা তার বা পোড়া সকেট ঠিক করুন।
- দরজা-জানালার লক, ছিটকিনি ও গ্রিল মজবুত কি না নিশ্চিত করুন।
- গ্যাসের চুলা ও লাইনের সংযোগ নিরাপদ কি না দেখুন।
- প্রয়োজনে রং করান এবং পুরো ফ্ল্যাট পরিষ্কার করান।
- বাথরুম ও রান্নাঘরে স্যাঁতসেঁতে বা ছত্রাকের দাগ থাকলে ঠিক করুন।
পর্যায় ২: ভাড়া নির্ধারণ ও বিজ্ঞাপন
একই এলাকায়, একই আকার ও সুবিধার ফ্ল্যাট কত টাকায় ভাড়া হচ্ছে তা খোঁজ নিন। বাজারের চেয়ে অনেক বেশি ভাড়া চাইলে ফ্ল্যাট দীর্ঘদিন খালি থাকতে পারে, আবার খুব কম চাইলে আপনার লোকসান। ভাড়ার সঙ্গে সার্ভিস চার্জ, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির বিল কীভাবে হবে তাও আগে ঠিক করুন।
বিজ্ঞাপনে (টু-লেট বোর্ড বা অনলাইন) যা লিখবেন:
- কক্ষ সংখ্যা, বাথরুম, বারান্দা ও তলা।
- মাসিক ভাড়া ও অন্যান্য চার্জ।
- লিফট, জেনারেটর, পার্কিং, নিরাপত্তারক্ষীর মতো সুবিধা।
- কবে থেকে ওঠা যাবে এবং যোগাযোগের নম্বর।
পর্যায় ৩: ভাড়াটিয়া নির্বাচন ও কাগজপত্র
- আগ্রহী ভাড়াটিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্র মূল কপি দেখে ফটোকপি রাখুন।
- আগের বাড়িওয়ালা ও কর্মস্থলের রেফারেন্স যাচাই করুন।
- লিখিত চুক্তিপত্র তৈরি করুন: ভাড়া, অগ্রিম, মেয়াদ, নোটিশ, বিল ও রক্ষণাবেক্ষণের শর্তসহ।
- অগ্রিম বা জামানত নিলে রসিদ দিন; অঙ্ক ঠিক করার আগে আইনের বিধান দেখে নিন।
- পুলিশের ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম পূরণ করিয়ে থানায় জমা দিন।
পর্যায় ৪: চাবি হস্তান্তরের দিন
| কাজ | কেন জরুরি |
|---|---|
| বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির মিটার রিডিং লেখা | প্রথম বিলের হিসাব নিয়ে বিরোধ এড়াতে |
| প্রতিটি কক্ষের ছবি তোলা | বাসা ছাড়ার সময় অবস্থা মিলিয়ে দেখতে |
| আসবাব ও ফিটিংসের তালিকা স্বাক্ষর করানো | কোন জিনিস দেওয়া হয়েছে তার প্রমাণ |
| চাবির সংখ্যা লিখে রাখা | বাসা ছাড়ার সময় সব চাবি ফেরত নিতে |
| বাড়ির নিয়ম জানানো | গেট বন্ধের সময়, ময়লা, পার্কিং নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে |
| জরুরি নম্বর দেওয়া | কেয়ারটেকার, প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ানের যোগাযোগ |
ভাড়াটিয়া ওঠার পর প্রথম মাস
প্রথম মাসটা সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে। এক-দুই সপ্তাহ পর খোঁজ নিন কোনো সমস্যা আছে কি না। প্রথম ভাড়া পেলে রসিদ দিন এবং পরের মাস থেকে ভাড়া দেওয়ার তারিখ আবার মনে করিয়ে দিন। ছোটখাটো অভিযোগ দ্রুত সমাধান করলে ভাড়াটিয়া দীর্ঘদিন থাকতে আগ্রহী হন, আর ঘন ঘন ভাড়াটিয়া বদলানোর ঝামেলা কমে।
শেষ কথা
এই চেকলিস্ট প্রিন্ট করে রাখুন বা ফোনে সংরক্ষণ করুন, এবং প্রতিবার ফ্ল্যাট খালি হলে একবার চোখ বুলিয়ে নিন। ভাড়াটিয়া ওঠার পর তাঁর তথ্য, চুক্তির মেয়াদ, শুরুর মিটার রিডিং ও অগ্রিমের হিসাব বাড়িওয়ালা ERP-এ তুলে রাখলে পরের মাসগুলোর ভাড়া ও বিলের হিসাব সহজ হয়ে যায়।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়ার আগে সবচেয়ে জরুরি কাজ কী?
ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও লক ঠিক আছে কি না নিশ্চিত করা, ভাড়াটিয়া যাচাই করা এবং লিখিত চুক্তি করা — এই তিনটি সবচেয়ে জরুরি।
হস্তান্তরের সময় মিটার রিডিং কেন লিখতে হয়?
শুরুর রিডিং লেখা থাকলে প্রথম মাসের বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির বিল কার ব্যবহারের তা নিয়ে কোনো বিরোধ হয় না। দুই পক্ষ স্বাক্ষর করে রাখা ভালো।
ফ্ল্যাটের ভাড়া কত ঠিক করব?
একই এলাকায় একই আকার ও সুবিধার ফ্ল্যাটের ভাড়া খোঁজ নিয়ে যুক্তিসংগত অঙ্ক ঠিক করুন। বাজারের চেয়ে অনেক বেশি চাইলে ফ্ল্যাট দীর্ঘদিন খালি থাকতে পারে।