নতুন ভাড়াটিয়াকে বাসা বা ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়ার আগে একটি লিখিত চুক্তিপত্র থাকলে ভাড়ার পরিমাণ, অগ্রিম, মেয়াদ ও বাসা ছাড়ার নিয়ম নিয়ে পরে ভুল বোঝাবুঝি কম হয়। নিচের নমুনাটি আবাসিক ভাড়ার জন্য তৈরি; দোকান বা অফিসের ক্ষেত্রেও শর্ত সামান্য বদলে ব্যবহার করা যায়।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • খালি ঘর (……………) ও বন্ধনীর [ ] অংশে সঠিক তথ্য বসান।
  • যে শর্ত আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, তা কেটে দিন বা নিজের শর্ত যোগ করুন।
  • প্রযোজ্য মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে প্রিন্ট করে দুই কপি তৈরি করুন।
  • উভয় পক্ষ ও দুজন সাক্ষী প্রতিটি পাতায় স্বাক্ষর করুন; উভয় পক্ষ একটি করে কপি রাখুন।

বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্রের নমুনা

বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র

অদ্য …………… তারিখে নিম্নলিখিত পক্ষদ্বয়ের মধ্যে এই চুক্তিপত্র সম্পাদিত হলো।

প্রথম পক্ষ (বাড়িওয়ালা): [বাড়িওয়ালার নাম], পিতা/স্বামী: ……………, জাতীয় পরিচয়পত্র নং: ……………, ঠিকানা: ……………, মোবাইল: ……………

দ্বিতীয় পক্ষ (ভাড়াটিয়া): [ভাড়াটিয়ার নাম], পিতা/স্বামী: ……………, জাতীয় পরিচয়পত্র নং: ……………, স্থায়ী ঠিকানা: ……………, মোবাইল: ……………, পেশা: ……………

ভাড়াকৃত সম্পত্তির বিবরণ: বাড়ি/হোল্ডিং নং ……………, রোড ……………, এলাকা ……………, থানা ……………, জেলা ……………। …… তলার ফ্ল্যাট/ইউনিট নং ……, যাতে …… টি শয়নকক্ষ, …… টি বাথরুম, রান্নাঘর ও বারান্দা রয়েছে।

উভয় পক্ষ সুস্থ মস্তিষ্কে, স্বেচ্ছায় ও কারও প্ররোচনা ছাড়াই নিম্নলিখিত শর্তে সম্মত হলেন:

  1. মেয়াদ: এই চুক্তির মেয়াদ …………… তারিখ হতে …………… তারিখ পর্যন্ত মোট …… মাস। মেয়াদ শেষে উভয় পক্ষের সম্মতিতে নবায়ন করা যাবে।
  2. মাসিক ভাড়া: মাসিক ভাড়া …………… টাকা (কথায়: …………… টাকা মাত্র), যা প্রতি ইংরেজি মাসের …… তারিখের মধ্যে অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে। প্রতিটি পরিশোধের বিপরীতে প্রথম পক্ষ লিখিত রশিদ দেবেন।
  3. অগ্রিম/জামানত: দ্বিতীয় পক্ষ …………… টাকা অগ্রিম হিসেবে প্রদান করলেন। বাসা ছাড়ার সময় বকেয়া ভাড়া, বিল ও ক্ষতিপূরণ (যদি থাকে) সমন্বয় করে অবশিষ্ট টাকা ফেরত দেওয়া হবে / শেষ …… মাসের ভাড়ার সাথে সমন্বয় করা হবে।
  4. ইউটিলিটি বিল: বিদ্যুৎ বিল (প্রিপেইড/পোস্টপেইড মিটার অনুযায়ী) ও গ্যাস বিল দ্বিতীয় পক্ষ পরিশোধ করবেন। পানি, সার্ভিস চার্জ, দারোয়ান ও লিফট খরচ বাবদ মাসিক …………… টাকা ভাড়ার সাথে দিতে হবে।
  5. রক্ষণাবেক্ষণ: ছোটখাটো মেরামত (বাল্ব, ট্যাপ, সুইচ ইত্যাদি) দ্বিতীয় পক্ষের দায়িত্বে। কাঠামোগত মেরামত, ছাদ চুইয়ে পানি পড়া বা মূল পাইপলাইনের সমস্যা প্রথম পক্ষ ঠিক করবেন। দ্বিতীয় পক্ষের অবহেলায় কোনো ক্ষতি হলে তিনি তা পূরণ করবেন।
  6. ব্যবহার ও সাবলেট: ভাড়াকৃত বাসা শুধু আবাসিক কাজে ব্যবহার করা যাবে। প্রথম পক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া বাসা বা এর কোনো অংশ অন্য কাউকে সাবলেট দেওয়া যাবে না এবং কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন করা যাবে না।
  7. আচরণ ও নিরাপত্তা: দ্বিতীয় পক্ষ ভবনের নিয়মকানুন মেনে চলবেন, প্রতিবেশীদের অসুবিধা হয় এমন কাজ করবেন না এবং কোনো বেআইনি কাজে বাসা ব্যবহার করবেন না। স্থানীয় থানার ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম প্রয়োজন হলে উভয় পক্ষ সহযোগিতা করবেন।
  8. ভাড়া পরিবর্তন: চুক্তির মেয়াদকালে ভাড়া বাড়ানো হবে না। নবায়নের সময় ভাড়া পরিবর্তন করতে চাইলে প্রথম পক্ষ অন্তত …… মাস আগে লিখিত নোটিশ দেবেন।
  9. নোটিশ পিরিয়ড: যেকোনো পক্ষ চুক্তি শেষ করতে চাইলে অন্য পক্ষকে অন্তত …… মাস আগে লিখিত নোটিশ দেবেন। নোটিশ ছাড়া বাসা ছাড়লে দ্বিতীয় পক্ষ নোটিশ সময়ের ভাড়া পরিশোধে বাধ্য থাকবেন।
  10. চুক্তি বাতিল: পরপর …… মাস ভাড়া বকেয়া থাকলে বা কোনো শর্ত গুরুতরভাবে ভঙ্গ হলে প্রথম পক্ষ লিখিত নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।
  11. হস্তান্তর: বাসা ছাড়ার সময় দ্বিতীয় পক্ষ সব চাবি ফেরত দেবেন এবং বাসা গ্রহণের সময়ের অবস্থায় (স্বাভাবিক ব্যবহারজনিত ক্ষয় ব্যতীত) হস্তান্তর করবেন।
  12. অন্যান্য শর্ত: ……………………………………………

উপরোক্ত শর্তাবলি পড়ে, বুঝে ও সম্মত হয়ে উভয় পক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে স্বাক্ষর করলেন।

প্রথম পক্ষের স্বাক্ষর: …………………… তারিখ: ……………

দ্বিতীয় পক্ষের স্বাক্ষর: …………………… তারিখ: ……………

সাক্ষী:

১। নাম: ……………, ঠিকানা: ……………, স্বাক্ষর: ……………

২। নাম: ……………, ঠিকানা: ……………, স্বাক্ষর: ……………

চুক্তিপত্র তৈরিতে সাধারণ ভুল ও টিপস

  • ভাড়া ও অগ্রিমের অঙ্ক সংখ্যা ও কথায় দুভাবেই লিখুন।
  • অগ্রিম ফেরত দেওয়া হবে নাকি ভাড়ার সাথে সমন্বয় হবে, তা পরিষ্কার করে লিখুন।
  • বাসা হস্তান্তরের দিন মিটার রিডিং, ফিটিংস ও আসবাবের একটি তালিকা করে উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করুন।
  • ভাড়াটিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি চুক্তির সাথে সংরক্ষণ করুন।
  • মুখে বলা কোনো শর্ত থাকলে তা-ও লিখিত আকারে যোগ করুন।

দ্রষ্টব্য: এটি শুধু একটি সাধারণ নমুনা, আইনি পরামর্শ নয়। স্ট্যাম্পের মূল্য, নিবন্ধন বা স্থানীয় নিয়ম সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ব্যবহারের আগে একজন আইনজীবীকে দিয়ে যাচাই করিয়ে নিন।

বাড়িওয়ালা ERP-তে ভাড়াটিয়ার তথ্য একবার সংরক্ষণ করলে চুক্তির মেয়াদ, অগ্রিম ও মাসিক ভাড়ার হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্র্যাক হয় এবং প্রতি মাসে রশিদ তৈরি হয়ে যায়। ফলে কাগজের চুক্তি খুঁজে বেড়ানোর ঝামেলা থাকে না।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র কি স্ট্যাম্পে করতে হয়?

সাধারণত চুক্তিপত্র প্রযোজ্য মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে করা হয়। মূল্য ও নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা মেয়াদ ও ভাড়ার ওপর নির্ভর করতে পারে, তাই একজন আইনজীবী বা স্ট্যাম্প ভেন্ডরের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।

চুক্তিপত্রে সাক্ষী কতজন রাখা উচিত?

প্রচলিতভাবে দুজন সাক্ষী রাখা হয়, যারা উভয় পক্ষের পরিচিত এবং প্রয়োজনে সাক্ষ্য দিতে পারবেন। সাক্ষীর নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর স্পষ্টভাবে লিখুন।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে কী করতে হবে?

উভয় পক্ষ রাজি থাকলে নতুন তারিখ ও প্রয়োজনে নতুন ভাড়া উল্লেখ করে চুক্তি নবায়ন করুন। নবায়ন না হলে নোটিশ পিরিয়ড মেনে বাসা হস্তান্তর ও অগ্রিমের হিসাব মিটিয়ে নিন।