ভাড়া নগদে, বিকাশ/নগদে বা ব্যাংকে যেভাবেই নিন, প্রতিটি পরিশোধের বিপরীতে একটি লিখিত রশিদ দেওয়া ভালো অভ্যাস। এতে ভাড়াটিয়ার কাছে পরিশোধের প্রমাণ থাকে, আর বাড়িওয়ালার কাছে থাকে মাসভিত্তিক পরিষ্কার হিসাব। নিচের ফরম্যাটটি রশিদ বইয়ের মতো দুই অংশে (মুড়ি ও মূল কপি) ব্যবহার করা যায়।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  • রশিদ নম্বর ক্রমানুসারে দিন (যেমন ২০২৬-০০১, ২০২৬-০০২), যাতে কোনোটি হারালে সহজে ধরা পড়ে।
  • কোন মাসের ভাড়া তা স্পষ্ট লিখুন; পরিশোধের তারিখ ও ভাড়ার মাস আলাদা হতে পারে।
  • ভাড়া, সার্ভিস চার্জ ও বিল আলাদা লাইনে লিখে মোট অঙ্ক সংখ্যা ও কথায় লিখুন।
  • মূল কপি ভাড়াটিয়াকে দিন, মুড়ি বা কার্বন কপি নিজের কাছে রাখুন।

বাড়ি ভাড়ার রশিদের নমুনা

ভাড়া প্রাপ্তির রশিদ

রশিদ নং: …………… তারিখ: ……………

বাড়ির নাম/ঠিকানা: ……………………………………

ফ্ল্যাট/ইউনিট নং: …………… তলা: ……………

ভাড়াটিয়ার নাম: [ভাড়াটিয়ার নাম] মোবাইল: ……………

ভাড়ার মাস: …………… (সাল: ……………)

বিবরণটাকা
মাসিক বাসা ভাড়া……………
সার্ভিস চার্জ (পানি/দারোয়ান/পরিচ্ছন্নতা)……………
গ্যাস বিল……………
বিদ্যুৎ বিল (যদি বাড়িওয়ালার মাধ্যমে দেওয়া হয়)……………
পূর্বের বকেয়া……………
অন্যান্য: …………………………
সর্বমোট……………
পরিশোধিত……………
অবশিষ্ট বকেয়া……………

কথায়: …………………………………… টাকা মাত্র।

পরিশোধের মাধ্যম: হাতে নগদ / বিকাশ / নগদ (মোবাইল ব্যাংকিং) / রকেট / ব্যাংক / চেক

লেনদেন/চেক নম্বর: ……………

আমি [বাড়িওয়ালার নাম] উপরোক্ত ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে উল্লিখিত মাসের ভাড়া বাবদ উক্ত টাকা বুঝে পেলাম।

গ্রহীতার স্বাক্ষর: …………………… (বাড়িওয়ালা/প্রতিনিধি)

প্রদানকারীর স্বাক্ষর: …………………… (ভাড়াটিয়া)

সংক্ষিপ্ত রশিদ (শুধু ভাড়ার জন্য)

রশিদ নং: …… তারিখ: ……

জনাব/জনাবা [ভাড়াটিয়ার নাম], ফ্ল্যাট নং ……, এর কাছ থেকে …………… মাসের বাসা ভাড়া বাবদ …………… টাকা (কথায়: …………… টাকা মাত্র) বুঝে পেলাম।

বাড়িওয়ালার স্বাক্ষর: ……………

রশিদ দেওয়ার সময় সাধারণ ভুল ও টিপস

  • আংশিক পরিশোধ হলে 'পরিশোধিত' ও 'অবশিষ্ট বকেয়া' দুটো ঘরই পূরণ করুন, নইলে পরে বিরোধ হতে পারে।
  • মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ভাড়া নিলেও লেনদেন নম্বরসহ রশিদ দিন।
  • অগ্রিম বা জামানতের টাকার জন্য আলাদা রশিদ দিন, মাসিক ভাড়ার রশিদে মেশাবেন না।
  • ঘষামাজা করা রশিদ না দিয়ে ভুল হলে সেটি বাতিল লিখে নতুন রশিদ দিন।
  • রশিদের মুড়ি বা কপি অন্তত চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত সংরক্ষণ করুন।

বাড়িওয়ালা ERP-তে ভাড়া আদায় এন্ট্রি করলেই রশিদ নম্বরসহ ডিজিটাল রশিদ তৈরি হয়, যা প্রিন্ট করা বা ভাড়াটিয়াকে SMS-এ পাঠানো যায়। বকেয়ার হিসাবও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরের মাসে যোগ হয়ে যায়।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

বাড়ি ভাড়ার রশিদে কী কী তথ্য থাকা জরুরি?

রশিদ নম্বর, তারিখ, ভাড়াটিয়ার নাম ও ইউনিট, কোন মাসের ভাড়া, টাকার পরিমাণ (সংখ্যা ও কথায়), পরিশোধের মাধ্যম এবং বাড়িওয়ালার স্বাক্ষর থাকা উচিত।

বিকাশে ভাড়া নিলে কি আলাদা রশিদ দিতে হবে?

লেনদেনের মেসেজ একটি প্রমাণ হলেও কোন মাসের ভাড়া বাবদ টাকা এসেছে তা এতে লেখা থাকে না। তাই লেনদেন নম্বর উল্লেখ করে রশিদ দেওয়া ভালো।

আংশিক ভাড়া পেলে রশিদ কীভাবে লিখব?

মোট প্রাপ্য, পরিশোধিত অঙ্ক ও অবশিষ্ট বকেয়া আলাদা করে লিখুন। পরের মাসের রশিদে ওই বকেয়া 'পূর্বের বকেয়া' ঘরে যোগ করুন।